তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ ৷ বৃহস্পতিবার সকালে এসএসকেএমে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ৷ তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ আজ উদ্ধার হওয়া চার জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে ৷ ২০ জন আহত ৷ এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ৷ কারও হাত, পা ও বুকের হাড় গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে ৷ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সবকরম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ এদিন সকালে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া 29 জনের মধ্যে ৯ জনের মৃ্ত্যু হয়েছে ৷ আহত ২০ জনের মধ্যে ১৫ জন বিপদমুক্ত ৷ ৪ জন আশঙ্কাজনক ৷ ১ জনের অবস্থা গুরুতর ৷ আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নিচ্ছে ৷” তিনি আরও জানান, অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না ৷ তবুও মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ এবং আহতদের 1 লক্ষ করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে ৷ দুর্ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এক্স পোস্টে লেখা হয়, “কলকাতার দুর্ঘটনাটি দুঃখজনক । দুর্ঘটনায় নিহতদের নিকটাত্মীয়দের পিএমএনআরএফ থেকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে । আহতদের ৫০,০০০ টাকা দেওয়া হবে । ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দিনরাত কাজ করছে ৷” অন্যদিকে, রাতভর তল্লাশিতে গ্রেফতার নির্মাণ সংস্থা বেহেরা ব্রাদার্সের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা । ঘটনার পর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ । দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং রাতভর অভিযান চালানোর পর তাঁকে গ্রেফতার করে লালবাজারের তদন্তকারী দল । এর আগে মহম্মদ সৈয়দ গুলজার (সম্ভবত তিনি সুপারভাইজার ছিলেন), লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ । মালিক গ্রেফতার হতেই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে চার ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতেই নিউ আলিপুরে বেহেরা ব্রাদার্সের অফিসে তল্লাশি চালান লালবাজারের গোয়েন্দারা । ঘটনার পর থেকেই শম্ভুনাথ বেহেরা আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ । তাঁর মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে, তিনি তারাতলা এলাকার একটি আবাসনে রয়েছেন । তবে প্রথম দিকে নির্দিষ্টভাবে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি । এরপর ওই আবাসনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ । তদন্তকারীরা একের পর এক প্রায় 6টি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান । শেষ পর্যন্ত জানা যায়, মেয়ের ফ্ল্যাটে না-থেকে তার ঠিক উল্টো দিকের একটি ফ্ল্যাটে, যা তাঁর এক বন্ধুর বলে দাবি, সেখানে লুকিয়ে ছিলেন শম্ভুনাথ বেহেরা । সেখান থেকেই তাঁকে খুঁজে বের করা হয় ।

