বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই বলেছিল, কোনও বেআইনি নির্মাণকে প্রশয় দেওয়া হবে না। গত কয়েকদিনে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে বুলডোজার চলেছে। বেআইনি নির্মাণ শুধু নয়, হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের হকারদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিলজলা থেকে শুরু করে হাওড়া স্টেশন-সহ বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে বুলডোজার অভিযান চলছে তার তীব্র বিরোধিতা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ৷ রবিবার রাতে ফেসবুকে একটি পোস্টে মমতা লেখেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাংলায় ভয় দেখানোর রাজনীতি চলে না ৷ গায়ের জোরে বাংলা শাসন করা যায় না ৷ সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানো যায় না ৷ তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, রাজ্য প্রশাসনের ঔদ্ধত্যের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের বাড়ি থেকে হকারদের স্টল ৷ মমতা আরও লেখেন, “আমরা এখন দেখছি বাংলার সাধারণ মানুষের আত্মসম্মানের উপর আঘাত নামিয়ে আনা হচ্ছে ৷ যাঁরা খুব কষ্ট করে নিজেদের জীবন গড়ছেন সেই দিনমজুর থেকে শুরু করে ফুটপাথের বিক্রেতা এবং ছোট ছোট দোকানের মালিককে নিশানা করেছে সরকার ৷” পোস্টের এই অংশে হাওড়া স্টেশনের পাশাপাশি তিলজলায় যেভাবে বুলডোজারের ব্যবহার হয়েছে তার তীব্র বিরোধিতা করে মমতা লেখেন, ” হাওড়া স্টেশনে বুলডোজার চলল ৷ তিলজলা আর পার্ক সার্কাসের রাস্তায় মানুষের অসন্তোষ জমছে ৷ আচমকা যাঁদের মাথার উপর থেকে ছাদ সরিয়ে নেওয়া হল অথবা সংসার চালনোর শেষ উপায়টুকুও কেড়ে নেওয়া হল তাঁদের মনে গভীর অসন্তোষের জন্ম হচ্ছে ৷ সরকারের আচরণ থেকে মনে হচ্ছে তাদের কাছে চমক দেওয়ার ইচ্ছা মানবিকতার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ৷” তিনি আরও লেখেন, “এই সরকার আগে ভাঙচুর করে তারপক মানুষের কথা শোনে ৷ এই সরকার বাংলার মূল্যবোধ ভুলে গিয়েছে ৷ একটি সমাজ কীভাবে তার মধ্যে থাকা দুর্বল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আচরণ করে তার ভিত্তিতে তার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে ৷ দুর্বল শ্রেণির অস্তিত্ব বিপন্ন করে দেওয়া কোনও সমাজের পক্ষেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে না ৷” ফেসবুক পোস্টের একেবারে শেষ দিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “যে রাজ্য় সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং বিরোধিতাকে পরাজিত করার মূল্যবোধ নিয়ে তৈরি তার শাসনের পরিভাষা কখনওই বুলডোজার হতে পারে না ৷”

মমতা যখন এই পোস্ট করছেন তার আগে হাওড়া স্টেশন চত্বরে চোখে পড়ে বুলডোজার-বিক্রম ৷ এমনিতে বছরের পর বছর ধরে হাওড়া স্টেশনের গেটগুলো যেন দমবন্ধ করা একটা বাজার । ডালা, ঠেলাগাড়ি, গুমটির জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছিল যাত্রীদের পায়ে হাঁটার জায়গাটুকুও । প্রতিদিন লক্ষ মানুষের ঘাম-ধুলো মাখা যন্ত্রণা শেষমেশ পৌঁছল প্রশাসনের কানে । পালটে গেল হাওড়া স্টেশনের বাইরের ছবি । শনিবার গভীর রাতে রেল পুলিশের বিশাল বাহিনী নামল পথে, সঙ্গে বুলডোজার । এর আগে তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের পরও অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে শুরু করে শুভেন্দুর সরকার ৷ তবে সেই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে হাইকোর্ট ৷ অন্যদিকে, রবিরাব দুপুরে আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পার্ক সার্কাসে ৷ রাজ্যে বুলডোজ়ার অভিযানের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ের প্রতিবাদে নামেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ক্রমশ সেই বিক্ষোভ বড় আকার নেয় ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‍্যাফ। ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ ৷ এরপরই রবিবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কারও নাম উল্লেখ না করে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারকে লক্ষ্য করে তোপ দাগলেন সদ্য প্রাক্তন হওয়া বাংলার প্রশাসনিক প্রধান ৷