কন্যাশ্রী দিবসের মঞ্চ থেকে ছাত্রীদের সামনে আবারও বাংলার মর্যাদা ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক এবং বাংলা থেকে যাওয়া মানুষদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি সরব হন । তাঁর অভিযোগ, অনেক সময় বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় । মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “যাঁরা ভারতবর্ষের বাসিন্দা নন, তাঁদের নিয়ে আমার কিছু বলার নেই । তবে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দেওয়া যাবে না ।” উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দু’দিন আগে নয়ডায় এক প্রযুক্তিবিদকে তাঁর ছেলের সঙ্গে হোটেলে থাকতে দেওয়া হয়নি, কারণ তিনি বাংলায় কথা বলেছিলেন । মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “আমি যদি আপনার ভাষাকে সম্মান করি, আপনি কেন আমার ভাষাকে সম্মান করবেন না ?” এদিন ধনধান্য অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রীদের মাতৃভাষা বাংলা অগ্রাহ্য না-করার আহ্বান জানান । একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পঞ্জাব ও বাংলার অবদান স্মরণ করিয়ে দেন । তাঁর কথায়, স্বাধীনতা সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা নিয়েছিল পঞ্জাবের, তারপর ছিল বাংলার স্থান । আন্দামানের সেলুলার জেলে আজও এই দুই রাজ্যের বিপ্লবীদের সংগ্রামের স্মৃতি অম্লান । রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্রের অবদানও তিনি উল্লেখ করেন । কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ড্রপআউট হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে । উচ্চমাধ্যমিকে একসময় ড্রপআউট ছিল 15.42 শতাংশ, যা কমে হয়েছে 3.17 শতাংশ । মাধ্যমিকে 16.32 শতাংশ থেকে নেমে এসেছে 2.9 শতাংশে । বর্তমানে 93 লক্ষ ছাত্রী কন্যাশ্রীর আওতায় এবং আগামী বছর তা এক কোটিতে পৌঁছবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি । এ পর্যন্ত প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় 17 হাজার কোটি টাকা । মেয়েদের দ্রুত বিয়ে না-দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং আত্মনির্ভর হতে অভিভাবকদের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী । সবুজসাথী প্রকল্পে সাইকেল বিতরণ এবং গবেষণার জন্য ইউজিসি অনুদান বন্ধ হওয়ায় রাজ্য সরকারের অর্থায়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন ।