মদ্যপান করিয়ে রাতভর লাগাতার শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে ৷ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ৷ কলকাতার মাঝেরহাট অঞ্চলে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বুধবার তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় । এই ঘটনায় মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি এক ১২ বছরের কিশোরীকে শহরের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে, জোর করে মদ্যপান করায় ৷ এরপর রাতভর সেই কিশোরীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ । জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে এজেসি বোস রোডের একটি হোটেলে । নির্যাতিতা কিশোরীর মা (৩৬), থানায় গিয়ে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । তিনি বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা ৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই মুচিপাড়া থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয় । তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, ওই নাবালিকার জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে । নিউ মার্কেট থানায় এক মহিলা আধিকারিকের উপস্থিতিতে অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে তার বয়ান রেকর্ড করা হয় । পাশাপাশি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে কিশোরীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয়েছে । এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক বলেন, “ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ধারার পাশাপাশি পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে । ঘটনার তদন্ত চলছে ৷” এদিকে, লালবাজার সূত্রে খবর, এই সংক্রান্ত তথ্য লিখে ইতিমধ্যেই কলকাতার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে ই-মেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে । কলকাতা শহরে এই প্রকারের কোনও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঘটনার এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী পকসো আইনে মামলা রুজু করতে হবে ৷পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই নির্যাতিতার যাবতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং নির্যাতিতার পরে থাকা বস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে তা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে ৷ এই প্রক্রিয়ায় অবশ্যই একজন মহিলা সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিককে থাকতে হবে ৷ এছাড়াও এই প্রকার ঘটনায় নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ চার্জশিট পেশ করার ক্ষেত্রে এগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৷ মাঝেরহাটের ঘটনায় এই প্রত্যেকটি প্রক্রিয়াই অবলম্বন করেছে পুলিশ ৷ প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকবছর আগে এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল জোড়াবাগান থানা এলাকার একটি বাড়িতে ৷ বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সির এক কর্মীর বিরুদ্ধে সেই বাড়িরই ভাড়াটে নাবালিকাকে পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ৷ জোড়াবাগান থানার পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ শুধু এই ঘটনাই নয়, শহর কলকাতায় বারবার উঠে এসেছে যৌন নির্যাতনের খবর ৷ আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও এই অপরাধ তাতে কমেনি ৷ এরপরেও ঘটেছে কসবার আইন কলেজের ঘটনার মতো আরও বেশকিছু ঘটনা ৷ সেই তালিকায় যুক্ত হল মাঝেরহাটের মতো আরও একটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ৷