সেপ্টেম্বর পড়তে না-পড়তেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যাবে হইহই রব ৷ কিন্তু, তারও আগে পুজো নিয়ে রব উঠেছে রাজ্যের রাজনীতিতে ! সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো অনুদান ৷ সরকারি তহবিল থেকে এভাবে কোনও ধর্মীয় উৎসবের জন্য টাকা বরাদ্দ করা যায় কি না, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের ঘোষণা আইনসম্মত কি না, তা নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন রয়েছে ৷ রাজ্য সরকারের এই অনুদানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিরোধী শিবিরের কিছু আইনজীবী ৷ সেই মামলায় বুধবার রায় ঘোষণা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ তা নিয়ে এদিন বিরোধীদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ৷ কুণাল এদিন বলেন, “কলকাতা হাইকোর্ট পুজোর অনুদান চালু রেখেছে ৷ এটা খুব ভালো বিষয় ৷ আদালত যেটা বলেছে সেটা ঠিক ৷ বিচারপতিরা জানিয়েছেন, যাঁরা হিসেব দেন তাঁরাই অনুদান পাবেন ৷ কিন্তু, চালুর পর থেকে যখনই পুজো অনুদান দেওয়া হয়েছে, তখনই পুজো কমিটিগুলিকে গাইড লাইনও দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ তাদের রীতিমতো হিসেব দিতে হয় ৷ পুজোর এক থেকে দু’মাসের মধ্যেই সেই হিসেব জমা দিতে হয় ৷ যে সরকারি দফতর থেকে কমিটিগুলি অনুদান পায়, সেখানেই পুজোর হিসেব জমা দিতে হয় ৷ যে পুজো কমিটি হিসেব দেবে না, বিধি অনুযায়ী তারা আগামী বছর থেকে অনুদান পাবে না ৷ পুজো কমিটিগুলিও সেকথা জানে ৷ সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেসের আইনজীবীদের একাংশ পুজো কিংবা অনুদানের প্রশ্ন উঠলেই বাধা দেওয়ার রাজনীতি করে যাচ্ছেন ৷ সেই রাজনীতিতে আজ হাইকোর্ট জল ঢেলে দিয়েছে ৷” সম্প্রতি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেছেন, অনুদানের নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু ভোট কেনার চেষ্টা করছেন ৷ এনিয়ে কুণালের প্রতিক্রিয়া, “পুজোর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো কমিটিগুলিকে টাকা দিচ্ছেন ৷ সেই কারণেই লকডাউনের সময় যখন সারা দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় কমেছিল কিন্তু বাংলায় মাথাপিছু আয় বেড়ে গিয়েছিল ৷ সঠিকভাবেই দুর্গাপুজো হয়েছিল ৷ এখন সুকান্তবাবু যদি একথা বলেন, তাহলে তা দ্বিচারিতার সামিল ৷” কুণাল আরও বলেন, “আমরা দেখেছিলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নকল করতে গিয়ে, তাঁরাও (বিজেপি) এমন কিছু চালু করেছিলেন ৷ মহারাষ্ট্রে তাঁদেরই সরকার ৷ সেখানকার সরকারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নকল করে গণেশ পুজোয় সহায়তা করার চেষ্টা করছে ৷ এই দ্বিচারিতার মানে কী ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই যা ভেবেছিলেন, সবাই এখন সে কথা ভাবছে ৷ সুকান্তবাবুদের উচিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়া ৷ আসলে পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত হয়ে সুকান্ত মজুমদার এই মন্তব্য করেছেন ৷”