banganews.net

 নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে রাজ্যের জন্য একটি নয়া শিল্পনীতি তৈরি করতে চাইছে । সেই শিল্পনীতি গঠন করা নিয়েই এবার শিল্পপতি ও বণিক সভাগুলির সঙ্গে নবান্ন সভাঘরে এক দীর্ঘ বৈঠক সারল রাজ্য প্রশাসন ।শিল্পপতি ও বিভিন্ন বণিক সভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসে রাজ্যের শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রী গোষ্ঠী। নবান্ন সভাঘরে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। এছাড়া কিছুক্ষণের জন্য বৈঠকে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। উদ্দেশ্য, নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত করার আগে সরাসরি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অভাব-অভিযোগ ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ শোনা । প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা ।

​শিল্পনীতি তৈরির আগে এমন খোলামেলা আলোচনা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে জানান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় । যাঁরা শিল্প গড়বেন, তাঁদের সমস্যার কথা তাঁদের মুখ থেকেই শোনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি । শিল্পমন্ত্রী এদিন বলেন, “সবটাই পজিটিভ, প্রায় তিন ঘণ্টা মিটিং হল । এটা করতে হয় । ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি, আমাদের যেটা হচ্ছে, তার আগে স্টেকহোল্ডারস অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, বিজনেস লিডারস, এন্টারপ্রেনারস – এঁদের মতামত নিতে হয় । তাই আমরা তাঁদের সকলের সঙ্গে কথা বললাম । সেখানে আমি ছিলাম, ফিনান্স মিনিস্টার ছিলেন, লেবার মিনিস্টার ছিলেন, ট্যুরিজম মিনিস্টার ছিলেন, চিফ সেক্রেটারি, অ্যাডভাইজার টু অনারেবল সিএম, ফিনান্স সেক্রেটারি, ইন্ডাস্ট্রি সেক্রেটারি, ল্যান্ড সেক্রেটারি, এমএসএমই সেক্রেটারি, এঁরাও সকলে ছিলেন ।” তিনি আরও জানান, “প্রত্যেকের কথা শোনা হয়েছে এবং তাঁদের ভিউ, তাঁরা যেটা চাইছেন, কারণ তাঁদের থেকে তো ভালো কেউ জানবে না যে কী কী সমস্যা তাঁদের ফেস করতে হচ্ছে এবং কোন কোন জিনিসগুলো না থাকলে বা না হলে তাঁদের চলবে না ৷ আমাদের তো একেবারে প্রথম থেকেই শুরু করতে হচ্ছে । সুতরাং আমরা সেগুলো শুনলাম শুধু না, আমরা সকলে সেগুলোকে নোটও নিলাম । এবার সেগুলো ইনকর্পোরেটেড হবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসিতে ।”

​অতীতে শিল্পের বৈঠকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট হতো বলে এদিন নাম না-করে কটাক্ষ করেন শিল্পমন্ত্রী । এই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই সরকারের সমস্ত পদক্ষেপই সদর্থক হবে । এই সরকার এমন কিছু করবে না । যেমন আমি শুনতাম নাকি এই ধরনের মিটিং কখনও হয়নি, কখনও যদি ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টদের ডাকা হতো তাহলে তাঁদেরকে গান টান গাইতে হতো, সেটাও কথাবার্তা হল । তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনও কিছু কথা মানে তা অপ্রাসঙ্গিক এবং তাঁরা গান টান গাইতে বলতেন, সে যাই হোক, মানে সেই ধান ভানতে শিবের গীতের মতো ।”

​শিল্পমন্ত্রীর এই সুরে সুর মিলিয়েছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংও । নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এতদিন যা করেছেন করেছেন, আমরা এটা বলছি যে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি ঠিক হবে নাচ গান না-করে । “