নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসকে সমাজমাধ্যমে অসম্মান করার অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বুধবার উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে দেখা করে সমাজমাধ্যমে নেতাজিকে অসম্মানের বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা এই দুঃসাহস দেখিয়েছে পুলিশ বিষয়টি ভালো ভাবে নিচ্ছে না, অবিলম্বে পোস্ট ডিলিট করুন ও ক্ষমা চান। যদিও ক্ষমা চাইলেই রেহাই মিলবে এমনটা নয়। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি একাধিকবার নেতাজিকে নিয়ে প্রকাশ্যে অসম্মানসূচক মন্তব্য করেছেন। এদিন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সকলের জন্যই সমান’ তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গেরম মাটিতে দাঁড়িয়ে পূজ্যপাদ প্রাতঃস্মরণীয়, দেশপ্রেমীক, যিনি স্বাধীনতা পাইয়ে দিয়েছেন, সেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্কে যারা যেখানে অপমানজনক, অশোভন, আপত্তিজনক শব্দ প্রয়োগ করেছেন সেটা কোনও প্রকৃত ভারতবাসী, রাষ্ট্রবাদী দেশপ্রেমিক স্বীকার করে না। আমরা পশ্চিবঙ্গের মাটিতে এটা করতে দেব না।’

উল্লেখ্য, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় (অনন্ত মহারাজ) এই বিতর্কের জন্মদাতা। সম্প্রতি তাকে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রাসঙ্গিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। তাঁর দাবি, আজাদ হিন্দ ফৌজের জওয়ানরা আসলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অংশ ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি তাঁদের বন্দি করার পর নেতাজির হাতে তুলে দেয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেই সেনাবাহিনীর ‘অপব্যবহার’ করেছিলেন। এর পরে তিনি নেতাজিকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে দেগে দেন। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যায় বিজেপি। এনিয়ে বিজেপির কোনও নেতা সেভাবে মুখ খোলেনি। বিজেপির অস্বস্তি আরও বাডড়ে যখন নগেন রায়ের অনুগামীরা ফেসবুকে নেতাজিকে নিয়ে ‘অপমানজনক’ পোস্ট করে তাঁকে খাটো করার চেষ্টা করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে তা আন্দাজ করতে পেরেই উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি উল্লেখ করেন। তারপরই কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী।