তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে মেয়ো রোডে ফের বাংলার আত্মপরিচয় ও অস্মিতাকে হাতিয়ার করে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস টেনে তাঁর বার্তা, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র চলছে ৷ কিন্তু তা বাংলার মানুষ মানবে না । মমতার অভিযোগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পর্যন্ত বিকৃত করা হচ্ছে । তাঁর কথায়, “ক্ষুদিরাম বসুর নাম বদলে ‘ক্ষুদিরাম সিং’ বলা হচ্ছে । কেরলের পাঠ্যপুস্তকে লেখা হচ্ছে নেতাজি ইংরেজদের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন । এগুলো কি বাংলার গৌরবকে ছোট করার চেষ্টা নয় ? বাংলার ইতিহাস ভুলে গেছে এরা । বাংলার বদনাম করার জন্য সিনেমা বানাচ্ছে টাকা দিয়ে ।” মমতার প্রশ্ন তোলেন, “বাংলা ভাষা বলে যদি কিছু না-ই থাকে, তবে ‘জন-গণ-মন’ জাতীয় সংগীত কী করে গাও ? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ভাষায় লিখেছিলেন?” দেশ দুই প্রধান স্লোগান ‘জয় হিন্দ’ ও ‘বন্দেমাতরম’ দুই বাঙালি যথাক্রমে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরই লেখা, তাও মনে করিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী ৷ বাংলা ও পঞ্জাবকে ভাগ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ, “ভারত ভাগ তো হয়নি ! আসলে বাংলা আর পঞ্জাবের ভাগ হয়েছিল ৷ তাই ওপারের লোকেরা বাংলায় কথা বলে ৷ আর পাকিস্তানেও একটা পঞ্জাব আছে ৷ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের 90 শতাংশই ছিলেন বাঙালি, বাকিরা পঞ্জাবি । তাই ওই দুটো রাজ্যকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল । সেই দায় বাংলার মানুষ নেবে কেন ? আমরা তো তখন ছিলাম না ।” এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “যখন ক্ষুদিরাম ফাঁসির মঞ্চে গান গেয়েছিলেন, তখন তোমরা কোথায় ছিলে জগাই-মাধাইরা ? তোমাদের পূর্বপুরুষ তো ব্রিটিশের দালালি করেছিল, মুচলেকা দিয়ে ফিরেছিল ।” শুধু ইতিহাসের বিকৃতি নয়, বাংলার ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এদিন অভিযোগ করেন মমতা ৷ বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, এনআরসি-র নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে । তাঁর হুঁশিয়ারি, “জীবন থাকতে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না । বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে, এবারও করবে ।” এদিন মমতা বিজেপি ও বামের মিলিত আঁতাতের কথাও তুললেন । তাঁর দাবি, “আজ তৃণমূলকে শুধু বিজেপি-বামের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে না, একজোট হওয়া সব শক্তির সঙ্গে লড়তে হচ্ছে । কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে মানুষ আমাদের পাশে আছেন ।” সমাবেশের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বাঙালি অস্মিতার পক্ষে সুর আরও চড়িয়ে বলেন, “বাংলাকে অপমান করলে আমরা চুপ থাকব না । চক্রান্তের বাঁধ ভাঙো ৷ বাংলার ভাইবোনরা এক হোক ।”