ব্যাটিং-বিপর্যয় সামলে এনে দিয়েছিলেন দুরন্ত জয় ৷ ২০২৬ আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচেও কথা বলল সমীর রিজভির ব্য়াট ৷ সেঞ্চুরি হাতছাড়া হল বটে, কিন্তু ইমপ্যাক্ট-সাব হিসেবে বিধ্বংসী ৯০ রানের ইনিংস খেলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেও দলকে জেতালেন বছর বাইশের ব্যাটার ৷ ঘরের মাঠে ১৬৩ রান তাড়া করে ছয় উইকেটে জিতল দিল্লি ক্যাপিটালস ৷ শনিবাসরীয় ডাবল-হেডারের প্রথম ম্য়াচে কোটলায় (অধুনা অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম) টস করতে এসে চমকে দেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ৷ শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছিটকে যেতে হয় হার্দিক পান্ডিয়াকে ৷ টস জিতে মুম্বইকে প্রথম ব্য়াটিংয়ে ডাকেন দিল্লি দলনায়ক অক্ষর প্য়াটেল ৷ ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং মুম্বই ইনিংসের তৃতীয় ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে প্রাথমিক ঝটকা দেন মুকেশ কুমার ৷ ন’রানে ফেরেন রায়ান রিকেলটন ৷ বঙ্গ পেসারের স্লোয়ারে ঠকে শূন্যে আউট হন তিলক বর্মা ৷ ১৮ রানে দুই উইকেট হারায় ‘পল্টন’রা ৷ তৃতীয় উইকেটে ভারতের দুই বিশ্বজয়ী অধিনায়কের জুটিতে খানিকটা থিতু হয় মুম্বই ইনিংস ৷ ওপেনার রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের জুটিতে ওঠে মূল্যবান ৫৩ রান ৷ এরপর ২৬ বলে ৩৫ করে ফিরে যান ‘হিটম্যান’ ৷ মারেন পাঁচটি চার, একটি ছয় ৷ তবে হাফসেঞ্চুরি আসে অধিনায়ক সূর্যর ব্য়াটে ৷ মূলত তাঁর ব্য়াটেই কিছুটা চ্যালেঞ্জিং রান তুলতে সমর্থ হয় পাঁচবারের চ্য়াম্পিয়নরা ৷ শেরফান রাদারফোর্ড পাঁচ রানে ফিরলেও নমন ধিরকে সঙ্গে নিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ‘স্কাই’ ৷ যদিও এরপর লম্বা হয়নি মুম্বই অধিনায়কের ইনিংস ৷ তিনটি চার ও দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৬ বলে ৫১ রানে ফেরেন তিনি ৷ ২১ বলে ২৮ করে আউট হন ধির ৷ শেষদিকে মিচেল স্য়ান্টনার ও করবিন বস্ক ছয় উইকেট হারিয়ে দলকে পৌঁছে দেন ১৬২ রানে ৷ ১৩ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন কিউয়ি অধিনায়ক ৷ ট্রেন্ট বোল্টের পরিবর্তে একাদশে আসা বস্ক অপরাজিত থাকেন চার বলে ১১ রানে ৷ ২৬ রানে মুকেশ কুমার সর্বাধিক দু’টি উইকেট নিলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্য়াটেল, ভিপরাজ নিগম, টি নটরাজনরা ৷ জবাবে সাত রানে জোড়া উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেটে পাথুম নিশাঙ্কা ও সমীর রিজভির জুটি জয়ের দিকে এগিয়ে দেয় দিল্লিকে ৷ দু’জনে যোগ করেন ৬৬ রান ৷ নিশাঙ্কা ৩০ বলে ৪৪ করে ফিরলেও ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রিজভি ৷ একসময় মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়বেন তিনি ৷ কিন্তু সেঞ্চুরি মাঠে রেখেই ফেরেন দিল্লি ব্য়াটার ৷ ম্য়াচ সেরার ৫১ বলে ৯০ নের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও সমসংখ্যক ছয় ৷ রিজভি আউটের পর ১৮ বলে ২১ রানে অপরাজিত থেকে ১১ বল বাকি থাকতে জয় এনে দেন ডেভিড মিলার ৷ তিন রানে অপরাজিত থাকেন গত ম্য়াচে রিজভিকে সঙ্গ দেওয়া ট্রিস্টান স্টাবস ৷ এই জয়ের ফলে দু’ম্য়াচে চার পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে দিল্লি ৷