banganews.net

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে যখন তোলপাড় দেশ এবং রাজ্য-রাজনীতি, সেই সময় বিরোধীদের একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে তোপ দেগে জানান, এসব হতাশার বহিঃপ্রকাশ ৷ ভোটে হেরে বিরোধীরা হতাশাগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ সিপিএম-তৃণমূলের সখ্যতা নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেন শুভেন্দু ৷ রবিবার শুভেন্দু দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী দলগুলি হতাশা থেকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে ৷ তাঁর কথায়, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে বিরোধীদের আপত্তি আদতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু দাবি করেন, কিছু সংবাদ সংস্থা, যারা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে এখনও মেনে নিতে পারেনি, তারা ক্রমাগত গুজব ছড়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তিন কমিশনারের হাসিমুখের ছবি প্রকাশ করে নির্বাচন সদন। এই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ছবিই বলে দিচ্ছে, এসআইআরের সিদ্ধান্ত কারও একার ছিল না। তিন নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখান থেকেই তা প্রমাণিত।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিপুলভাবে পরাজিত হয়ে বিরোধীরা এখন সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্টকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং জনগণের রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমালোচনা করে তাদেরও নিশানা করেছেন ৷ শুভেন্দু দাবি করেন, এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে এবং মানুষের যথাযথ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলায় পরাজয়ের পর বিরোধী দলগুলি হতাশা থেকে এসআইআর নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।” কেরলের সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, “কংগ্রেস সেখানে এসআইআর সমর্থন করছে, কারণ তারা দক্ষিণের সেই রাজ্যে নির্বাচনে জিতেছে ৷ অথচ পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর তারা এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।” শুভেন্দু আরও বলেন, “যেহেতু কংগ্রেস কেরলের নির্বাচনে জিতেছে, সেই কারণেই তারা সেখানে এসআইআর-কে সমর্থন করছে ৷ কিন্তু বাংলায় এর বিরোধিতা করছে, কারণ কংগ্রেস ও তার মিত্ররা এখানে নির্বাচনে হেরেছে ৷” শুভেন্দু আরও দাবি করেন, “বাংলার এসআইআর থেকে 27 লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার জন্য দায়ী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন নয়।” বিজেপি নেতা নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা তৃণমূল কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর দল এবং সিপিএম এখন এক সুরে কথা বলছে। সিপিএম-এর সঙ্গে তৃণমূলের কথিত রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বামফ্রন্টের আমলের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা, যেমন শৈবাড়ি এবং নন্দীগ্রামের কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।