বুধবার লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল হতে চলেছে ৷ বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিল আনা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং যে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার বা আটক হলে তাঁদের অপসারণ করতে। এই বিলের বিষয়বস্তু সামনে আসতেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ৷ প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, দেশজুড়ে এত বিষয় থাকতে কেন কেন এই বিল পেশ করা হচ্ছে ? এর পাশাপাশি কেন্দ্রকে বিঁধতে অভিষেক তুলে আনেন PoK প্রসঙ্গও! এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অভিষেক লিখেছেন, “বিরোধী দল এবং সমগ্র জাতির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকারের এখনও পিওকে পুনরুদ্ধার করার সাহস নেই। তারা কেবল ফাঁকা বক্তৃতা দেয়, কিন্তু যখন ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আমাদের সীমান্ত রক্ষা এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে কাজ করার কথা আসে, তখন তারা কোনও প্রকৃত উদ্যোগ দেখায় না।” তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এদিন এক্স পোস্টে আরও লিখেছেন, “নির্বাচন কমিশনকে (EC) অপব্যবহার করে SIR কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে, সরকার এখন আরও একটি ‘E’-অর্থাৎ ED-কে সক্রিয় করে এমন একটা আইন আনতে চাইছে, যাতে বিরোধী নেতাদের নিশানা করা যায়। এই আইনের সাহায্যে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে, জনগণের রায়কে বিকৃত করে রাজ্য সরকারগুলিকে ভেঙে ফেলা যায়।” এখানেই শেষ নয়, অভিষেকের সংযোজন, “এই সরকার নিজেকে জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী, গরিববিরোধী, তফসিলি জাতিবিরোধী, উপজাতিবিরোধী, ওবিসি-বিরোধী, ফেডারেলবিরোধী এবং সর্বোপরি ভারতবিরোধী হিসেবে প্রমাণ করেছে। দেশের সংবিধান বিক্রি করছে। দেশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবছে।” ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আরও সংযোজন, “কেন্দ্র জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্য সরকারকে ফেলতে সবরকম চেষ্টা করছে কেন্দ্র।”

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, এই বিলে বলা হয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার কিংবা আটক করা হলে, টানা ৩০ দিন বন্দিও থাকলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অন্য কোনও মন্ত্রীকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। বিলে এই প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যে, বহিষ্কৃত মন্ত্রীরা মুক্তি পাওয়ার পর ফের পদ ফিরে পেতে পারেন। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি অথবা গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম লাগু করতে চাওয়ার প্রস্তাব সরকারের। এটি হবে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল।