পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে গর্ভপাতের অভিযোগ করলেন এক মহিলা ৷ অভিযোগপত্রে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা শাখার অধ্যক্ষ প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর মহিলার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির কথা বলা হয়েছে ৷ তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন নির্যাতিতা ৷ বৃহস্পতিবার রাতে নবগ্রাম থানায় নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে ৷ এ নিয়ে লালবাগ মহকুমার পুলিশ আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, “মামলা রুজু হয়েছে ৷ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে ৷ পুলিশ পরবর্তী তদন্ত শুরু করেছে ৷” উল্লেখ্য, অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, 2012 সালের ডিসেম্বর মাসে অভিযোগকারিণী ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের চাণক আদিবাসী আবাসিক স্কুলে যান ৷ সেখানেই তাঁর সঙ্গে আশ্রমের অধ্যক্ষ কার্তিক মহারাজের পরিচয় হয় ৷ এমনকি তাঁকে আলাদাভাবে ডেকে আলাপ করেন কার্তিক মহারাজ ৷ ওই স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন ৷ এরপর তাঁকে আশ্রমের স্কুলের পাঁচতলার ঘরে থাকতে দেওয়া হয় ৷ তাঁকে বড় রকমের প্রতিশ্রুতিও দেন কার্তিক মহারাজ ৷ অভিযোগ, 2013 সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্তিক মহারাজ নানান সময়ে মহিলার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করেন ৷ এমনকি বেলডাঙার আশ্রমে পাঁচদিনের জন্য নির্যাতিতাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি ৷ সেখানেও তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ৷ ওই বছরের জুন মাস পর্যন্ত তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চলে বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা ৷ আর তার জেরে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন ৷ অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর কার্তিক মহারাজ নির্যাতিতাকে জোর করতে থাকেন গর্ভপাতের জন্য ৷ এমনকি আশ্রম থেকে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ৷ সেই সময় কার্তিক মহারাজ তাঁকে মাসে-মাসে টাকা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন ৷ অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতিও রাখেননি তিনি ৷ বরং বহরমপুরের একটি নার্সিংহোমে জোর করে নির্যাতিতার গর্ভপাত করানো হয় ৷ নার্সিংহোমের মালিক তথা চিকিৎসক এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও আরেক মহিলার উপস্থিতিতে তাঁর গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা ৷ এরপরেও নানান সময়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা ৷ পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্যাতিতার গর্ভপাতের পরেও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন আশ্রমে তাঁকে ডেকে নিয়ে যেতেন কার্তিক মহারাজ ৷ সেখানেও তাঁর সঙ্গে নির্যাতন চালাতেন অভিযুক্ত ৷ আর প্রতিবারই নির্যাতিতাকে নাকি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন তিনি ৷ 2019 সাল পর্যন্ত তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা ৷ এরপর তিনি দীর্ঘ সময় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ৷ গত 12 জুন তিনি কার্তিক মহারাজের মোবাইলে ফের ফোন করেন ৷ ফোনে প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানান ৷ পরেরদিন অর্থাৎ, 13 জুন বহরমপুর সংশোধনাগারের পাশে জেলা সংখ্যালঘু দফতরের সামনে নির্যাতিতাকে অপেক্ষা করতে বলেন কার্তিক মহারাজ ৷ সেই মতো তিনি অপেক্ষাও করেন ৷ তিনি অভিযোগ করেছেন, সেখানে দু’জন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে তাঁর সামনে দাঁড়ান ৷ জানানো হয়, কার্তিক মহারাজ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাঠিয়েছেন ৷ তা শুনে নির্যাতিতা গাড়িতে উঠেও পড়েন ৷ কিন্তু, গাড়িতে ওঠার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় ৷ তাঁকে ভয় দেখানো হয় কার্তিক মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগ না-করতে ৷ এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ৷ এই ঘটনার পর তিনি আতঙ্কে ছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা ৷ তবে, বৃহস্পতিবার রাতে নবগ্রাম থানায় কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, জোর করে গর্ভপাত এবং হুমকির অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি ৷ যদিও, এই অভিযোগ নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে রাজি হননি কার্তিক মহারাজ ৷ তিনি শুধু বলেন, “আমি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না ৷ আমার আইন বিভাগের লোকজন রয়েছেন ৷ তাঁরা বিষয়টি দেখছেন ৷” জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে ৷ পুলিশ পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে ৷

