বিমান ভেঙে প্রাণ হারালেন কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর অন্ততপক্ষে ৩৩ জন সদস্য । দেশের দক্ষিণে অবস্থিত পুয়ের্তো লেগুয়েজামো সামরিক ঘাঁটি থেকে ওড়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে পড়ে এই হারকিউলিস বিমানটি । প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন । শহরটির ডেপুটি মেয়রের মতে, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ৮১ জন আহত হয়েছেন । সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিয়োতে উপ-মেয়র কার্লোস ক্লারোস বলেন, “নিহতদের মরদেহ ছোট শহরটির মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আহতদের বড় শহরে পাঠানোর আগে শহরের একমাত্র দু’টি ক্লিনিকে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় ।” পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরটি পুতুমায়ো প্রদেশে অবস্থিত, যা ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তবর্তী একটি আমাজনীয় প্রদেশ । ক্লারোস কলম্বিয়ার টেলিভিশন স্টেশন আরসিএন-কে বলেন, “আমি পুয়ের্তো লেগুইজামোর সেই সকল মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা এই দুর্ঘটনাগ্রস্তদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন ।” ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা । বাকিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন । তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে । স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের থেকে পাওয়া ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যাচ্ছে গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে । এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ছড়িয়েছে । তা দেখে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে খুব একটা সমস্যা হয় না । দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ আসার আগে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভ পেট্রো এক্স অ্যাকাউন্টে করা পোস্টে জানান, আশা করি এই দুর্ঘটনায় কারও প্রাণ যায়নি। তবে এর কয়েক মুহূর্ত পর থেকেই একে একে মৃত্যুর খবর আসতে থাকে । নিজের পোস্টে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য় তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট । তাঁর দেশের সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক বিমান থেকে শুরু করে অন্য সামগ্রী ব্যবহার করছে না । এমনটা দাবি করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে এই বিষয়টির পরিবর্তন হয় । দেশের সামরিক বাহিনীর হাতে অত্যাধুনিক সামগ্রী তুলে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর । কিন্তু আমলাতন্ত্রের কারণে তা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান প্রেসিডেন্ট। এই অচলাবস্থার জন্য সামরিক প্রশাসনের একাংশকে সরাসরি দায়ী করেন। তিনি মনে করেন, প্রশাসন পরিচালনের দায়িত্বে থাকা কর্তারা যদি নিজেদের কাজ করতে না পারেন তাহলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া উচিত । কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট করে জানা যায়নি । উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হলে সেই কাজ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে । তবে প্রেসিডেন্ট যে কথা জানিয়েছেন তা থেকে স্পষ্ট সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত বিমান থেকে শুরু করে অন্য সামগ্রী অত্যাধুনিক নয় । সেটাই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিভাত হয় কিনা সেটাই এখন দেখার ।