আগামী শুক্রবার, 22 অগস্ট তিনটি নতুন মেট্রো রুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । যদিও ওই অনুষ্ঠানের জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৷ তবে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার গ্রিন লাইনের শিয়ালদা-এসপ্ল্যানেড অংশ, অরেঞ্জ লাইনের হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি ক্রসিং)-বেলেঘাটা অংশ এবং ইয়েলো লাইনের নোয়াপাড়া-জয় হিন্দ বিমানবন্দর (বিমানবন্দর) অংশে মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন । এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ ১৪ অগাস্টে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা আমন্ত্রণ পত্রে রেলমন্ত্রী লিখেছেন, “যশোর রোড মেট্রো স্টেশনে উপরোক্ত কর্মসূচিতে আপনাকে উপস্থিত থাকার জন্য আমরা বিনীতভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি ৷” নীতিগত একাধিক কারণে মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা । প্রথমত, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী ভারতীয়দের উপর ভাষা-সন্ত্রাস ও অপমানের ঘটনা ঘটছে । বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের মদতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে । অর্থনৈতিক বঞ্চনার পাশাপাশি বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ রাজ্যের শাসকদলের । এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী কোনওভাবেই কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশে বসতে চান না বলে তৃণমূল সূত্রে খবর । দ্বিতীয়ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে দমদম মেট্রো রুট-সহ একাধিক রেল প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ও তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল । তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই সব প্রকল্পের কাজ ফেলে রেখে ভোটের আগে হঠাৎ উদ্বোধনের মাধ্যমে কৃতিত্ব নিতে চাইছে বিজেপি । মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, রুটিন আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছে মমতাকে ৷ অথচ এই প্রকল্পের আসল স্থপতি তিনি নিজেই । ফলে সেখানে বিজেপির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া তাঁর জন্য উপযুক্ত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে । তৃতীয়ত, এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবিধানিক পদে থেকে কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন । কিন্তু সেসব মঞ্চে বিজেপি সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অপমানজনক আচরণ করেছিলেন । তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে । তাই এবার মুখ্যমন্ত্রী কোনও সুযোগ দিতে নারাজ । তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, বিজেপির চোখে বাংলা চিরকালই বিরোধিতার কেন্দ্র । বাংলায় তারা ভোটে পরাজিত হয়, তাই প্রতিশোধমূলকভাবে নানা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া, প্রাপ্য টাকা না-দেওয়া, বাংলাকে আর্থিক বঞ্চনার শিকার করা – এসব নিত্যদিনের ঘটনা । তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাংলা ভাষাকে আক্রমণ । বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে । অনুপ্রবেশ রোধের দায়িত্ব কেন্দ্রের হলেও বাংলাভাষী ভারতীয়দের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অপমান করা হচ্ছে । তৃণমূলের যুক্তি, এর বিরুদ্ধেই সরব মুখ্যমন্ত্রী ।

