হরমুজ প্রণালী আপাতত সবার জন্য খুলে দিল ইরান ৷ কিন্তু এই জলপথের যে অংশটি ইরানের মেরিটাইম অর্গানাইজেশন ঘোষণা করেছে, শুধু সেই পথের কথাই ঘোষণা করা হয়েছে ৷ প্রতিবেশী লেবাননের সঙ্গে ইজরায়েলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরল তেহরান ৷ গতকালই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে 10 দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন ৷ তিনি অবশ্য এদিন জানিয়েছেন, এই বিরতি সম্পূর্ণ হয়নি ৷ তবে ইরান এই কৌশলী জলপথ খোলায় তা এবার হয়ে যাবে ৷ শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “লেবাননের যুদ্ধবিরতির জন্য হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ৷” এর সঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, “ইরানের জলপথ ও বন্দর পরিচালনাকারী সংগঠন যে কোঅর্ডিনেটেড রুট-এর কথা উল্লেখ করেছে ৷” এর মধ্যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে লেবাননের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল ৷ হেজবোল্লার বিরুদ্ধে প্রচার এখনও বাকি ৷ নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইজরায়েল হেজবোল্লার 90 শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ধ্বংস করে দিয়েছে ৷ তিনি জানান, “আমরা ওদের ধ্বংস করার কাজ এখনও শেষ করিনি ৷”

এদিকে প্রতিপক্ষ ইরানের হরমুজ খোলার ঘোষণার পরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশাল-এ লেখেন, “ইরান এখনি ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খোলা এবং যাতায়াত করা যাবে ৷ ধন্যবাদ ৷” একের পর এক পোস্টে তিনি লিখতে থাকেন, “হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা থাকলেও আমেরিকার নৌসেনা যে অবরোধ করেছিল, তা থাকবে ৷ ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন 100 শতাংশ সম্পূর্ণ ৷” আরেকটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, “ইরান আর কখনও হরমুজ প্রণালী বন্ধ না-করায় সম্মত হয়েছে ৷ বিশ্বের বিরুদ্ধে একে আর কখনও অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হবে না ৷” আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বিশ্বের জন্য একটা দুর্দান্ত দিন ৷” ইরানের হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প ৷ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতকেও ৷ গত 28 ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে যোগসাজশে ইরানের তেহরানে হামলা চালায় ইজরায়েল ৷ তারপর ইরানও পাল্টা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, আরব আমির শাহি, কাতার, কুয়েতের মতো দেশগুলির মার্কিন সেনাঘাঁটি, তৈল শোধনাগারকে নিশানা করে হামলা চালায় ৷ এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ৷ বিশ্বের এই কৌশলী জলপথ দিয়ে 20 শতাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয় ৷ তাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷ এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন ৷ কিন্তু ইরান কোনও ভাবেই এই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি ৷ হরমুজ প্রণালী বন্ধই ছিল ৷ এর মধ্যে গত 7 এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয় আমেরিকা ও ইরান ৷ এরপর 11 এপ্রিল রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় শান্তি স্থাপনের বৈঠকে বসে ইরান ও আমেরিকার নেতৃত্ব ৷ কিন্তু রাতভর আলোচনার পরেও কোনও সমাধান পাওয়া যায়নি ৷ হরমুজ প্রণালী আঞ্চলিক জলপথ বলে দাবি করে ইরান ৷ এই জলপথ আন্তর্জাতিক নয়, তাই হরমুজে কর্তৃত্ব একমাত্র ইরানেরই থাকবে বলে অনড় থাকে তেহরান ৷ এই পরিস্থিতিতে গত 12 এপ্রিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা ঘোষণা করেন, আমেরিকার নৌসেনা এবার হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে ৷ তারাও পাল্টা অবরোধ করবে ৷ ইরান এই জলপথ দিয়ে জাহাজ যাতায়াতে মাশুল নিচ্ছে, তা হতে দেবে না আমেরিকা ৷