এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যু ৷ বুধবার রাতে হাসপাতালের এইচডিইউ ওয়ার্ড ((High Dependency Unit)-এর 33 নম্বর ঘরের বাথরুম থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তারপর চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে নার্সকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে ৷ কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগারওয়াল বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা সব দিক বিবেচনা করছি ৷ পরিবার যেখানে চাইবে, সেখানেই আজ ময়নাতদন্ত হবে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা আসবেন। আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিক তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, নার্সের স্বামী ব্যবসা করেন। শ্বশুরবাড়ি দিল্লিতে। তাঁর বাবার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। দমদমে স্বামীর সঙ্গেই থাকতেন।” ইতিমধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ৷ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি ৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল রাতে 30 বছরের এমএসসি নার্সিং পাশ, হাসপাতালের গাইনি বিভাগের HDU নার্সিং স্টাফের দেহ উদ্ধার হয়েছে। রোগীর পরিষেবা দিয়ে আনুমানিক রাত 9টা নাগাদ তিনি শৌচালয়ে যান। জুনিয়র ডাক্তার ওনার খোঁজ করেন কিছুক্ষণ পরে। দমদম ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দা। পরিবারের ইচ্ছায়, ময়নাতদন্ত হচ্ছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে। সাতদিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট জমা দেবে।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নার্সের বয়স 30 বছর। তিনি দমদম থানা এলাকার বাসিন্দা। বুধবার রাত 8টা থেকে তাঁর নাইট শিফট (ডিউটি) ছিল। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি বাথরুমে যান। প্রায় সাত মিনিট পরেও ফিরে না-আসায় সহকর্মীরা তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় সহকর্মীদের। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।